বংশাবলির প্রথম খণ্ড 28

1 দায়ূদ ইস্রায়েলের সমস্ত কর্মকর্তাদের যিরূশালেমে এসে জড়ো হবার জন্য আদেশ দিলেন। এতে সমস্ত বীর যোদ্ধারা এসেছিলেন। তাঁরা ছিলেন বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতারা, রাজার বারোটি সৈন্যদলের প্রধান সেনাপতিরা, হাজার ও একশো সৈন্যের সেনাপতিরা, রাজা ও রাজার ছেলেদের সমস্ত সম্পত্তি তদারককারীরা, রাজবাড়ীর কর্মকর্তারা ও বীর যোদ্ধারা। 2 পরে রাজা দায়ূদ উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদের বললেন, “আমার ভাইয়েরা ও আমার লোকেরা, আমার কথায় মনোযোগ দিন। সদাপ্রভুর নিয়ম সিন্দুকের জন্য, অর্থাৎ আমাদের ঈশ্বরের পা রাখবার জায়গার জন্য একটা স্থায়ী ঘর তৈরী করবার ইচ্ছা আমার মনে ছিল, আর আমি তা তৈরী করবার আয়োজনও করেছিলাম। 3 কিন্তু ঈশ্বর আমাকে বললেন, ‘আমার নামে তুমি ঘর তৈরী করবে না, কারণ তুমি একজন যোদ্ধা এবং তুমি রক্তপাত করেছ।’ 4 “তবুও ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু চিরকাল ইস্রায়েলের উপর রাজা হওয়ার জন্য আমার গোটা পরিবারের মধ্য থেকে আমাকেই বেছে নিয়েছিলেন। তিনি নেতা হিসাবে যিহূদাকে বেছে নিয়েছিলেন, তারপর যিহূদা-গোষ্ঠী থেকে আমার বাবার বংশকে বেছে নিয়েছিলেন এবং ইস্রায়েলের উপরে রাজা হওয়ার জন্য তিনি খুশী হয়ে আমার ভাইদের মধ্য থেকে আমাকেই বেছে নিয়েছিলেন। 5 সদাপ্রভু আমাকে অনেক ছেলে দিয়েছেন, আর সেই সব ছেলেদের মধ্যে সদাপ্রভুর রাজ্য ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসবার জন্য তিনি আমার ছেলে শলোমনকে বেছে নিয়েছেন। 6 তিনি আমাকে বলেছেন, ‘তোমার ছেলে শলোমনই সেই লোক, যে আমার ঘর ও উঠান তৈরী করবে, কারণ আমি তাকেই আমার ছেলে হবার জন্য বেছে নিয়েছি আর আমি তার বাবা হব। 7 যেমন এখন করা হচ্ছে সেইভাবে যদি সে আমার আদেশ ও নির্দেশ পালন করবার ব্যাপারে স্থির থাকে তবে আমি তার রাজ্য চিরকাল স্থায়ী করব।’ 8 “কাজেই সমস্ত ইস্রায়েলীয়দের, অর্থাৎ সদাপ্রভুর সমাজের লোকদের এবং আমাদের ঈশ্বরের সামনে আমি আপনাদের এখন এই আদেশ দিচ্ছি যে, আপনারা আপনাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সমস্ত আদেশ পালন করতে মনোযোগী হন যাতে আপনারা এই চমৎকার দেশে থাকতে পারেন এবং চিরকালের সম্পত্তি হিসাবে আপনাদের বংশধরদের হাতে তা দিয়ে যেতে পারেন।” 9 “আর তুমি, আমার ছেলে শলোমন, তুমি তোমার বাবার ঈশ্বরকে সামনে রেখে চলবে এবং তোমার অন্তর স্থির রেখে ও মনের ইচ্ছা দিয়ে তাঁর সেবা করবে, কারণ সদাপ্রভু প্রত্যেকটি অন্তর খুঁজে দেখেন এবং চিন্তার প্রত্যেকটি উদ্দেশ্য বোঝেন। তাঁর ইচ্ছা জানতে চাইলে তুমি তা জানতে পারবে, কিন্তু যদি তুমি তাঁকে ত্যাগ কর তবে তিনিও তোমাকে চিরকালের জন্য অগ্রাহ্য করবেন। 10 ১০ এখন মনোযোগী হও, কারণ উপাসনা করবার জন্য একটা ঘর তৈরী করতে সদাপ্রভু তোমাকেই বেছে নিয়েছেন। তুমি শক্তিশালী হও এবং কাজ কর।” 11 ১১ তারপর দায়ূদ তাঁর ছেলে শলোমনকে উপাসনা ঘরের বারান্দা, তাঁর দালানগুলো, ভান্ডার ঘরগুলো, উপরের ও ভিতরের কামরাগুলো এবং পাপ ঢাকা দেবার জায়গার নক্‌শা দিলেন। 12 ১২ সদাপ্রভুর ঘরের উঠান, তার চারপাশের কামরা, ঈশ্বরের ঘরের ধনভান্ডার এবং উৎসর্গের জিনিস রাখবার ভান্ডারের যে পরিকল্পনা ঈশ্বরের আত্মা দায়ূদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন তা সবই তিনি শলোমনকে জানালেন। 13 ১৩ যাজক ও লেবীয়দের বিভিন্ন দলের কাজ, সদাপ্রভুর ঘরের সমস্ত সেবা কাজ এবং সেই কাজে ব্যবহারের সমস্ত জিনিসপত্র সম্বন্ধে তিনি তাঁকে নির্দেশ দিলেন। 14 ১৪ বিভিন্ন সেবা কাজের জন্য যে সব সোনা ও রূপার জিনিস ব্যবহার করা হবে তিনি তার জন্য কতটা সোনা ও রূপা লাগবে তার নির্দেশ দিলেন। 15 ১৫ প্রত্যেকটি সোনার বাতিদান ও বাতির জন্য কতটা সোনা এবং ব্যবহার অনুসারে প্রত্যেকটি রূপার বাতিদান ও বাতির জন্য কতটা রূপা লাগবে তার নির্দেশ দিলেন। 16 ১৬ দর্শন রুটি রাখবার সোনার টেবিলের জন্য কতটা সোনা এবং রূপার টেবিলগুলোর জন্য কতটা রূপা লাগবে তার নির্দেশ দিলেন। 17 ১৭ মাংস তুলবার কাঁটা, উৎসর্গের রক্ত রাখবার বাটি ও কলসী আর ধূপ বেদির জন্য কতটা খাঁটি সোনা লাগবে এবং প্রত্যেকটি সোনা ও রূপার পাত্রের জন্য কতটা সোনা ও রূপা লাগবে তার নির্দেশ দিলেন। 18 ১৮ এছাড়া ধূপ বেদির জন্য, অর্থাৎ সদাপ্রভুর নিয়ম সিন্দুকটি ঢেকে রাখবার জন্য যে সোনার করূবেরা পাখা মেলা অবস্থায় থাকবে তাদের জন্য কতটা খাঁটি সোনা লাগবে তিনি তারও নির্দেশ দিলেন। 19 ১৯ দায়ূদ বললেন, “সদাপ্রভু তাঁর পরিচালনার যে নমুনা আমার কাছে প্রকাশ করেছিলেন তাঁর পরিচালনায় আমি তা এঁকেছিলাম, আর সেই নমুনার খুঁটিনাটি বুঝবার জ্ঞান তিনি আমাকে দিয়েছিলেন।” 20 ২০ দায়ূদ তাঁর ছেলে শলোমনকে এই কথাও বললেন, “তুমি শক্তিশালী হও, ও সাহস কর এবং কাজ কর। তুমি ভয় কোরো না, নিরাশ হোয়ো না, কারণ সদাপ্রভু ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর তোমার সঙ্গে আছেন। সদাপ্রভুর সেবা কাজের জন্য উপাসনা ঘর তৈরীর সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি তোমাকে ছেড়ে যাবেন না বা ত্যাগ করবেন না। 21 ২১ ঈশ্বরের ঘরের সমস্ত সেবা কাজের জন্য বিভিন্ন দলের যাজক ও লেবীয়েরা প্রস্তুত আছে। সমস্ত কাজে তোমাকে সাহায্য করবার জন্য দক্ষ ও ইচ্ছুক লোকেরাও আছে। নেতারা ও সমস্ত লোকেরা তোমার আদেশ মানতে রাজি।”